বিগত সরকারের আমলে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলা গোষ্ঠীর সমন্বয়ে যে স্বজনতোষী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিল ব্যাংক খাত। সরকার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে যে বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছিল, তার বড় একটা অংশ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে। মূলত: এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হল-মার্ক গ্রুপসহ আরও গ্রুপ এবং বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়তি ও কেলেঙ্কারির কারণে উচ্চ খেলাপী ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে এই গোষ্ঠীর অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও আমাদের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলে গেছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি এবং ব্যাংকগুলোতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। দুর্দশাগ্রস্থ স¤পদ (Distressed Loan) বলতে ব্যাংকের এমন ঋণ ও অগ্রিমকে বোঝায়, যেগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এবং যেগুলো থেকে ব্যাংক প্রত্যাশিত আয় পায় না বা পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম থাকে। এসব স¤পদ ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য, মুনাফা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব স¤পদের মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলীকৃত কিন্তু এখনও অপরিশোধিত ঋণ, আদালতের স্থগিতাদেশাধীন ঋণ এবং অবলোপনকৃত (Written-off) হলেও এখনও অনাদায়ী অবস্থায় আছে। এসব ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়, যা ব্যাংকের মুনাফা হ্রাস সেসাথে মূলধন সক্ষমতা এবং ঋণ বিতরণ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। ফলে, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত খেলাপি ঋণ (NPL) অনুপাতের তুলনায় বিপর্যস্থ স¤পদ অনুপাতকে অধিকতর বিস্তৃত ও কার্যকর সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন (Financial Stability Report) ২০২৫ অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণ ও অগ্রিমের ৬০ শতাংশ। ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। সহজভাবে বলতে গেলে, ব্যাংকগুলো যে প্রতি ১০ টাকা ঋণ দিয়েছে, তার প্রায় ৬ টাকাই বর্তমানে খেলাপি, পুনঃতফসিলীকৃত, অবলোপনকৃত অথবা অন্য কোনোভাবে গুরুতর আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি পুনঃতফসিলীকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, আদালতের স্থগিতাদেশাধীন ঋণ ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত স¤পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিপর্যস্ত স¤পদ বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা বা ৪৪ শতাংশেরও বেশি। মূলত: ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকিং খাতের বহু গোপন ও আড়াল করা মন্দ ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে শুরু করে। ফলে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

এত দ্রুত অবনতির কারণ শুধুমাত্র সাময়িক অর্থনৈতিক সংকট নয়। বরং এটি বহু বছরের সঞ্চিত কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। দুর্বল সুশাসন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ, অবাধ লোপাট, অপর্যাপ্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন, অকার্যকর ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং বারবার নিয়ন্ত্রক ছাড়, এসব কারণ সম্মিলিতভাবে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

ঋণগ্রহীতা সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়লে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ একটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, পুনঃতফসিলীকৃত অনেক ঋণই পরবর্তীতে আবার খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। ফলে ঋণগ্রহীতার পরিশোধ সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে বারবার পুনঃতফসিলীকরণ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ বিলম্বিত করে এবং এক ধরনের মিথ্যা স্থিতিশীলতার ধারণা সৃষ্টি করে।

ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (CRAR) হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক, যা কোনো ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক চাপের সময় ক্ষতি বহনের ক্ষমতা পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। বাসেল-৩ কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ন্যূনতম ১০ শতাংশ সিআরএআর (CRAR) বজায় রাখতে হয়। এর সঙ্গে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার (CCB) যোগ করলে কার্যকর মূলধন অনুপাতের প্রয়োজন হয় ১২.৫ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের সিআরএআর ২০২৪ সালের ৩.০৮ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এমনকি প্রায় ২০টি ব্যাংক সম্মিলিতভাবে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে বলে জানা গেছে।

মুনাফার সূচকগুলোও সমানভাবে উদ্বেগজনক। খাতভিত্তিক স¤পদের ওপর মুনাফার হার (Re-turn on assets-ROA) ২০২৪ সালের ০.৪৩ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ঋণাত্মক ৪.৮১ শতাংশে নেমে গেছে। অন্যদিকে, শেয়ারহোল্ডারদের মূলধনের ওপর মুনাফার হার(Return on equity-ROE) ৮.৭০ শতাংশ থেকে কমে (১০-এর পাতায় দেখুন)

(৯-এর পাতার পর)

ঋণাত্মক ২৪৩.৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এসব তথ্য ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশে গভীর আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ বিপর্যস্ত স¤পদে পরিণত হওয়ায় ব্যাংকগুলোর সঞ্চয় সংগ্রহ এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যাপক ব্যাংকিং সংস্কার ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন বাস্থবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিকে শুধু ব্যাংক খাতের সংকট হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় অগ্রাধিকার হিসেবে নিতে হবে। তাই এখনই সময় সরকার ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার। কিছু ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ দরকার, কিছু ক্ষেত্রে আইনি উদ্যোগ, কিন্তু সবকিছুর মূল শর্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন এবং কতিপয় সুপারিশ করছি:

প্রথমত, লোপাটকৃত ঋণকে সাধারণ খেলাপী ঋণ থেকে পৃথক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ ব্যবসায়িক প্রতিকূলতা, বাজার পরিস্থিতি বা অনাকাক্সিক্ষত আর্থিক সংকটের কারণে সৃষ্ট খেলাপী ঋণ এবং জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ বা ইচ্ছাকৃত অনাদায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট লোপাটকৃত ঋণের প্রকৃতি ও দায়বদ্ধতা এক নয়। কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, স¤পদ জব্দ, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে লোপাটকৃত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে পৃথকভাবে সংরক্ষিত লোপাটকৃত ঋণের বিপরীতে সমন্বয় করা যেতে পারে। এর ফলে ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপী ঋণের পরিমাণ আরও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হবে, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয়ত, স¤পদ পুনরুদ্ধারে একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া বা ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা দেখায়-শুধু নীতিমালা থাকলেই হয় না, সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন, অর্থ আদালতের কার্যক্রম দ্রুত করা, দেউলিয়া আইন আধুনিক করা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এ পুরো প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে ৩-৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বৃহৎ ও শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নি®পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স¤পদ অনুসন্ধান, স¤পত্তি জব্দ, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ শনাক্তকরণ এবং ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তাই দশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং খেলাপী ঋণের বোঝা কমানোর স্বার্থে শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষায়িত ও দ্রুত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে পৃথক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

চতুর্থত, ব্যাংকগুলোর সুশাসনের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদ এবং ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাকে ঋণ বিতরণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তের জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে। ঋণ প্রদানে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও লুন্ঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ষষ্ঠত, বিগত আওয়ামি লীগ সরকারের সময়ের যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ লুণ্ঠন, করপোরেট সুশাসন লঙ্ঘন, অর্থ পাচার কিংবা আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা বা পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

সপ্তমত, বাংলাদেশ ব্যাংককে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রুডেনশিয়াল মানদন্ড প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে ঋণ শ্রেণিকরণ পদ্ধতির সামঞ্জস্য আনার সাম্প্রতিক উদ্যোগ স্বচ্ছতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অস্টমত, ঋণ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষায়িত আর্থিক আদালত, দ্রুততর আইনি প্রক্রিয়া এবং শক্তিশালী প্রয়োগ ক্ষমতা ঋণ আদায়ের হার বাড়াতে এবং কৌশলগত খেলাপি ঋণ নিরুৎসাহিত করতে সহায়ক হতে পারে।

নবমত, স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। বিনিয়োগকারী, আমানতকারী এবং নীতিনির্ধারকদের ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য দিতে হবে। পুনঃগঠন বা নিয়ন্ত্রক ছাড়ের মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যা আড়াল করা ভবিষ্যতে ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

দশমত, ভিয়েতনামে বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় কঠোর শাস্তির নজির বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়েছে। ভিয়েতনামের নারী ধনকুবের ট্রুং মি লানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের জন্য আদালত তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এটিকে ভিয়েতনামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও অর্থ পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইন প্রণয়ন করা উচিত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখতে একটি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা অপরিহার্য। বিপর্যস্ত স¤পদের সর্বশেষ পরিসংখ্যান নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করা উচিত। এখন সময় এসেছে দৃঢ় ও কার্যকর সংস্কারের। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করা শুধু আর্থিক প্রয়োজনই নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও একটি অপরিহার্য শর্ত।