এ্যাডভোকেট আবু হাসিন
ইতিহাসের এক ভাগ্যাহত বীর শহীদ নবাব সিরাজউদ্দৌলা। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননের এক প্রহসনের যুদ্ধে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন এবং নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে শাহাদাত বরণ করেছিলেন ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে। হত্যার পর তাকে ইতিহাসের খলনায়ক বানানোর চেষ্টা কম হয়নি। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই শহীদ সিরাজকে ইতিহাসে খলনায়ক হিসাবে প্রমাণ করতে পারেনি; বরং তিনি যে ইতিহাসের মহানায়ক ছিলেন সে কথাই বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ঐতিহাসিকরা যথাথই বলেছেন, ‘পলাশীর যুদ্ধের একমাত্র নায়ক ও বীর হচ্ছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। কারণ, তিনি দেশের স্বার্থেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। যদি তিনি ইংরেজদের সাথে সমঝোতা করতেন তাহলে দীর্ঘ সময় নবাব থেকে সুখে-শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু দেশ ও গণমানুষের ভালবাসায় নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে শাহাদাতকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন। যা স্বাধীনতাপ্রিয় প্রত্যেক মানুষের প্রেরণার উৎস’।
একজন পাশ্চাত্য ঐতিহাসিক যথার্থই বলেছেন, ‘দেশই বরঞ্চ তাকে তার মাটির কোলের সাথে আবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কখনও তার দেশের প্রজাদের সাথে কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। কখনও স্বেচ্ছায় স্বদেশকে বিকিয়ে দেননি। পলাশী প্রান্তরে মর্মান্তিক নাট্যমঞ্চে এক মাত্র তিনি ছিলেন মূল নায়ক।’
আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পূর্বে ১৭৫০ সাল থেকেই ৬ বছর ধরে সে লক্ষ্যেই আলীবর্দী খাঁ তার আদরের নাতি সিরাজকে নিজ সান্নিধ্যে রেখে যুদ্ধ বিদ্যা, অশ্ব চালনা ও প্রশাসনিক কাজে প্রশিক্ষণ দান করেন। মৃত্যুর আগেই তিনি সিরাজকে মসনদের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। ১৭৫৬ সালের ৯ এপ্রিল নবাব আলীবর্দী খান মৃত্যুবরণ করলে তার প্রিয় দৌহিত্র মীর্জা মোহাম্মদ বাংলা-বিহার-উরিষ্যার নবাব হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং মাত্র ১৪ মাস ১৪ দিনের মাথায় ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকানের প্রহসন ও পাতানো যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে ২রা জুলাই ঘাতকদের হাতে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে জাফরাগঞ্জ প্রসাদের নির্জন কক্ষে শাহাদাত বরণ করেন। তার মৃত দেহের ওপরও পাশবিকতা চালানো হয়।
মূলত, সিরাজ নবাব হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্রকারীরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। নবাবের পিতা বেশ আগেই শহীদ হয়েছিলেন। তার ভাই ইকরামুদ্দৌলাও আগেই স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তাই মাতামহের মৃত্যুর পর তিনি পারিবারিকভাবে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন। যেকোন পরিস্থিতিতে তাকে সাহস যোগানো বা পরামর্শ দেয়ার মত পারিবারিকভাবে কেউ অবশিষ্ট ছিলেন না। তাই এ নবীন নবাবকে সীমাহীন প্রতিকূলতা ও নানাবিধ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই অগ্রসর হতে হয়েছে। তার প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা, অক্লান্ত পরিশ্রম, কর্তব্য নিষ্ঠা ও দুদর্শিতা তাকে অনেক ক্ষেত্রেই সফল ও সার্থক করে তুলেছে। কিন্তু হেরে গেছেন তিনি নিজের মহানুভবতার কাছেই। কারণ, চিহ্নিত শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি যদি আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাহলে হয়তো নবাবকে পলাশী ট্রাজেডির মুখোমুখী হতে হতো না।
নবাবের নানাবিধ প্রতিকূলতার মোক্ষম সুযোগটা হাতিয়ে নিয়েছেন মীর জাফর, ইয়ার লতিফ, রাজা রাজবল্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎ শেঠ গংরা। ইতিহাসের এসব বিশ্বাসঘাতকরা এ নবীন নবাবকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে নানাবিধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এদের ঘাড়েই বন্দুক রেখে শিকার করেছে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। এসব বিভিষণ মনে করেছিল যে, নবাব সিরাজের পতনের পর তারাই বাংলা-বিহার-উরিষ্যার ভাগ্যনিয়ন্তা হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু তাদের সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি বরং তাদেরকে লাঞ্চনা ও অপমানের জীবনই যাপন করতে হয়েছে।
মীর জাফর ও জগৎ শেঠরা যে নবাব সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন এমন নয়। বরং নবাব আলীবর্দীর আমল থেকে এরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। নবাব সিরাজের সময়ে অতীতের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। বারবার মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণ হওয়ার পরও নবাব উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মীর জাফরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রাজ সদনে আহ্বান করেন। নবাব মনে করেছিলেন বাংলা-বিহার-উরিষ্যার স্বাধীনতা-সার্বভৌত্ব রক্ষায় বিপথগামী মীর জাফর সঠিক পথে ফিরে আসবেন। কিন্তু মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় সে মহতি উদ্দেশ্যে তিনি সফল হননি।
মূলত পলাশীর যুদ্ধ ছিল পরিকল্পিত, সাজানো ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের অংশ। সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের অধীনে ছিল নবাবের ৫০ হাজার সেনাবাহিনীর ৩৫ হাজার সৈন্য। তিনি পলাশীর যুদ্ধে একটি গুলী ছোড়ারও নির্দেশ দেননি। ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভও একই ভূমিকা পালন করেন। মীর মদন, সিনফ্রে ও মোহনলালের অধীনস্থ সৈন্যরা ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ সৈন্যের মোকাবেলায় এগিয়ে গেলে তাতেই ক্লাইভ রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হন। মীরমদন মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার সংবাদে ব্যাকুল হয়ে সিরাজ-উদ-দৌলা মীর জাফরকে ডেকে তার পদতলে উষ্ণীষ রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার আবেদন জানান। মীর জাফর সেদিন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নবাবকে যুদ্ধে বিরতি দেয়ার পরামর্শ দেন। এভাবেই বিনা যুদ্ধেই নবাবকে পরাজয় বরণ করতে হয়।
পলাশীর যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে কোনো যুদ্ধই ছিল না, ছিল ষড়যন্ত্রমূলক একটা যুদ্ধের নাট্যরূপ মাত্র। একটা পাতানো যুদ্ধের ছলনা ও নির্মম প্রহসন। ঐতিহাসিক নিখিল নাথ রায়ের ভাষায়, ‘বিশ্বাসঘাতকতার জন্য পলাশীতে যে ইংরেজরা জয় লাভ করিয়াছিল, ইহা নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক মাত্রেই একমত’। একজন ইংরেজ লেখকের উক্তি- Truth will ascribe the achievement to treachery. ঐতিহাসিকরা আরও বলেছেন, পলাশীর যুদ্ধ সত্যিকারার্থে কোনো যুদ্ধ ছিল না, এটা ছিল একটা গভীর ষড়যন্ত্র। প্রায় বিনা যুদ্ধেই নবাবের পতন হয়েছে। বিশ্বের যুদ্ধের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ একটি বিখ্যাত যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তাই কেউ কেউ বলেন, এটি যুদ্ধ ছিল না, ছিল ষড়যন্ত্রের কালো থাবা।
ঐতিহাসিক তপন মোহন চট্রোপাধ্যায় তাঁর পলাশীর যুদ্ধ গ্রন্থের ১৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন-‘পলাশীর যুদ্ধকে একটা যুদ্ধের মত যুদ্ধ বলে কেউ স্বীকার করে না। কিন্তু সেই যুদ্ধের ফলেই আস্তে আস্তে একমুঠো কারবারী লোক গজকাঠির বদলে রাজদন্ড হাতে ধরলেন। প্রথম থেকেই তাঁরা রাজত্ব করলেন না বটে, কিন্তু বাংলা-বিহার-উরিষ্যার ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়ালেন।’ তপন মোহন চট্রোপাধ্যায় খোলাখুলিই লিখেছেন, ‘ষড়যন্ত্রটা আসলে হিন্দুদেরই ষড়যন্ত্র’ হিন্দুদের চক্রান্ত হলেও বড় গোছের মুসলমান তো অন্তত একজন চাই। নইলে সিরাজউদ্দৌলার জায়গায় বাংলার নবাব হবেন কে? ক্লাইভ তো নিজে নবাব হতে পারেন না। হিন্দু নবাব কেউ পছন্দ করবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দেয়। জগৎশেঠরা তাদের আশ্রিত ইয়ার লতিফ খাঁকে সিরাজউদ্দৌলার জায়গায় বাংলার মসনদে বসাতে মনস্থ করেছিলো। উমিচাঁদেরও এতে সায় ছিল। কিন্তু ক্লাইভ মনে মনে মীরজাফরকেই বাংলার নবাবী পদের জন্য মনোনীত করে রেখেছিলো। কারণ, মীর জাফরেই তার আস্থাটা বেশি ছিল।
ষড়যন্ত্রকারীরা নবাবের নির্মল ও নিষ্কলুষ চরিত্রে কালিমা লেপন করতে কসুর করেনি। তারা নবাবকে নিষ্ঠুর ও চরিত্রহীন বলে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালিয়েছে। কতিপয় হিন্দু ঐতিহাসিক এক বাক্যে বলেই ফেলেছেন, সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একটি দায়িত্ববোধহীন নিষ্ঠুর, দুশ্চরিত্র তরুণ। হিন্দুদের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন তৎকালীন ঐতিহাসিক শ্রী অক্ষয় কুমার মৈত্র। তিনি সিরাজউদ্দৌলার প্রচলিত ধারার প্রতিবাদ করে সর্বপ্রথম বলেছেন, সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ১৪ মাস ১৪ দিন রাজত্ব করলেও দেশের শাসনকর্তা হিসাবে একাধারে তিনি ছিলেন ‘নিখাদ দেশপ্রেমিক’ অসম সাহসী যোদ্ধা, সকল বিপদে পরম ধৈর্য্যশীল, নিষ্ঠাবান, কঠোর নীতিবাদী, ধার্মিক, যে কোনো পরিণামের ঝুঁকি নিয়েও ওয়াদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তাঁর মন্ত্রীবর্গ, সেনাপতিমন্ডলী ও উচ্চপদস্থ কর্মচারীবৃন্দ সবাই ছিলেন তার বিরুদ্ধে ইংরেজের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’।
বস্তুত চতুর্দিকে ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয়েছে নবাবকে। আরাম-আয়েশ, আমোদ, প্রমোদ, লাম্পট্য-লীলার জন্য পরিমিত সময় তার হাতে ছিল না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আলীবর্দী খাঁন নির্মল ও পরিচ্ছন্ন চরিত্রের মানুষ। সর্বপরি তিনি অতিশয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তার দাম্পত্য জীবন ছিল সামাজিকভাবে সুনিয়ন্ত্রিত। আর সে পারিবারিক প্রভাবই পড়েছিল শহীদ নবাব সিরাজের চরিত্রে।
শহীদ নবাবের বিরুদ্ধে অতিশয় চরিত্রহীনতার ও ষড়যন্ত্রের সমুচিত জবাব দিয়েছেন নবাবপত্মী লুৎফুন্নেসা বেগম। নবাব সিরাজের মৃত্যুর পরে তার তরুণী বিধবা স্ত্রী চরিত্রহীন মীরনের বিবাহ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জানা যায়, মীর জাফরও তাকে তার হারেমে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি তা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছিলেন। তিনি জীবনের বাকি সময় তার প্রিয়মত স্বামীর কবর ‘খোশবাগে’ নামাজ আদায় ও কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করে পর্দা ও অত্যন্তশালীনতা বজায় রেখে অতিবাহিত করেছেন। কোন দুঃশ্চরিত্র, লম্পট স্বামীর জন্য কোন স্ত্রী পক্ষে এমন আত্মত্যাগ কোন ভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। বরং তা ষড়যন্ত্রকারীদের অভিযোগের অসারতায় প্রমাণ করে।
সিরাজের বিরুদ্ধে অন্ধকুপ হত্যার অভিযোগ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, কলকাতা প্রথম যুদ্ধে বিজয়ী সিরাজউদ্দৌলা অতিক্ষুদ্র আয়তনের একটি জানালাবিহীন ছোট কামরায় ১৪৬ জন ইংরেজকে কারারুদ্ধ করে রাখেন এবং সেই রাতেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মধ্য থেকে ১২৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। কিন্তু এ কাল্পনিক ঘটনাটি তারা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেনি। বিহারীলাল সরকার ‘ইংরাজের জয়’ গ্রন্থে লেখেন, ‘অন্ধকূপের বিবরণ অলীক। তবে সিরাজদ্দৌলার যে কলিকাতা আক্রমণ করিয়া ইংরাজকে তাড়াইয়া ছিলেন ইহা সর্ববাদি সম্মত।’ কয়েকটি তথ্য উল্লেখ করে বিহারীলাল বলেন যে, সিরাজকে কালিমালিপ্ত করে ইংরেজের সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্খা প্রতিষ্ঠার কারণেই হলওয়েল মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ইতিহাসবিদ ভোলানাথ প্রমাণ করেছিলেন যে, অন্ধকূপের ২৬৭ বর্গফুট আয়তন ১৪৬ জন পূর্ণবয়স্ক ইউরোপীয় সৈন্যের ধারণ ক্ষমতার বাইরে ছিলো। তিনি ১৮ ফুট ও ১৫ ফুট আয়তন বিশিষ্ট একটি স্থানকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ইউরোপীয়দের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির ১৪৬ জন বাঙালি কৃষককে ঠাসাঠাসি করেও ঢোকাতে তিনি ব্যর্থ হন। আর হলওয়েল মনুমেন্ট ১৮১৮সালে ভেঙে ফেলে আবার ১৯০২ সালে পুনঃস্থাপন এবং ১৯৪০ সালে পুনরায় প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইংরেজরাও ঘটনার অসারতা মেনে নিয়েছেন।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষণ করলে একথাই প্রমাণিত হয় যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একজন মহান দেশপ্রেমিক, সাহসী যোদ্ধা, রাজনৈতিক চরিত্রে অত্যন্ত সাহসী ও সূক্ষ্ম কূটনীতিবিদ এবং ব্যক্তিগত চরিত্রে সহজ, সরল ও বলিষ্ঠ নবাব। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা যদিও সাফল্য লাভ করেন নি কিন্তু তিনি স্বদেশকে তুলে দেন নি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের হাতে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি বরং তাকে এজন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে হয়েছে।
মূলত, শহীদ সিরাজউদ্দৌলা প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কাছেই হেরে গেছেন। ঐতিহাসিক মেলেসন পলাশীর প্রান্তরের কথিত যুদ্ধকে ‘যুদ্ধ’ বলে স্বীকার করেন নি। তার মতে, ‘নবাবের পক্ষে ছিল ৫০ হাজার সৈন্য আর ইংরেজদের পক্ষে মাত্র ৩ হাজার। কিন্তু কুচক্রী মীর জাফর, রায় দুর্লভ ও খাদেম হোসেনের অধীনে নবাব বাহিনীর একটি বিরাট অংশ পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কার্যত কোনো অংশগ্রহণ করেনি। এই কুচক্রীদের চক্রান্তে যুদ্ধের নামে প্রহসন হয়েছিল।’
লেখক : আইজীবী ও প্রাবন্ধিক।