লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এদিকে, ভূমিকম্পের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টার ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ (বাঁচানোর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সময়) শেষ হওয়ার আগেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকারী দলগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিটিভি (VTV)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, "মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও চোখ বন্ধ করিনি।" উদ্ধারকাজে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে ডজন খানেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি।"
ভিটিভি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 'লা গুয়াইরা' রাজ্য। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো এই এলাকাতেই তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। এছাড়া রাজধানী কারাকাসে অবস্থিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, পানি এবং জরুরি ওষুধের একটি কেন্দ্রীয় মজুত ও বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় এখনো অনেক মানুষ তাদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে তারা রাত কাটাচ্ছেন পার্ক ও উন্মুক্ত চত্বরে।
এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাধীন সাংবাদিক মারিয়া এমিলিয়া মিরো কেসাদা।
কারাকাস থেকে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মানুষ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তারা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’