ইরানি কারিগরি প্রতিনিধি দল কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং কাতারে আটকে থাকা নিজস্ব তহবিল অবমুক্তকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে দোহা সফর করছেন।

ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় কাতারে আটকে থাকা ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে $৬ বিলিয়ন ডলার অবিলম্বে অবমুক্ত করে ইরানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অবশিষ্ট তহবিল ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান কাতারের রাজধানী দোহায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি নিশ্চিত করেছেন যে এই মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে ইরানের কোনো সরাসরি বা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত নেই।

মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ বর্তমানে দোহায় কাতারি কর্মকর্তাদের সাথে আঞ্চলিক সংকট নিরসনে আলোচনা করছেন। একই সময়ে ইরানি কারিগরি দল সেখানে শুধুমাত্র কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করছে।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একটি শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা প্রশমন করা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের অবসান ঘটানো। এই চুক্তির অংশ হিসেবেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল ও তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।অগ্রগতির পর্যবেক্ষণ: সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সমঝোতার ভবিষ্যৎ কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। কাতার এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে যাতে উভয় পক্ষ পূর্বনির্ধারিত শর্তাবলী পুরোপুরি মেনে চলে।