কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শিশুপার্ক এখন আগাছায় ভরা ঘন জঙ্গল। মশা-মাছির নিরাপদ জন্মস্থান। প্রায় সব বিনোদন যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। অবকাঠামো ধ্বসে যাচ্ছে। গেটে তালা ঝুলছে, ভিতরে দোলনা, রাইডিং, ট্রেনসহ সবগুলো নষ্ট হওয়ায় পার্কটি যেন বিধ্বস্থ ধ্বংসস্তূপ। একসময় শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত এই পার্কটি এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানাও বটে।

কুমারখালী পৌর শিশুপার্ক আগাছায় ভরে গেছে ঃ নষ্ট রাইডগুলো যেন বিধ্বস্থ ধ্বংসস্তূপ২

জানা গেছে, পৌর কর্তৃপক্ষ গতবছর পার্কটি লিজ দেয়ার পর থেকেই এটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই, চেয়ার, দোলনা, বিভিন্ন পশুপাখির মূর্তি সবই ভেঙ্গে পড়েছে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক কেবলস চুরি হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও বিকেল হলেই পরিবার নিয়ে ভিড় জমতো এখানে। বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান হত মাঝে মধ্যেই।

জানা যায়, ২০০৫ সালে সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক বিনামূল্যে প্রবেশের পার্কটি নির্মাণ করেন। পরে সাবেক মেয়র সামছুজ্জামান অরুন ইজারার মাধ্যমে টিকিট চালু করলে পার্কটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের কয়েক মাস পর থেকেই শহরের একমাত্র এই বিনোদন কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে পড়ে। এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত পার্কে আর কেউ ঘুরতে আসেনা। লিজ গ্রহিতারাও উধাও হয়ে গেছে। এখন যেন কোন অবিভাবকই নেই কুমারখালী পৌর শিশুপার্কের।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, পার্কটি আধুনিকায়ন করলে শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসবে। বাচ্চাদের খেলার জায়গা নেই। দ্রুত সংস্কার হোক, নাতি-নাতনীদের নিয়ে আসতে পারি। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হোক, যাতে শিশুপার্কটি আবার প্রাণ ফিরে পায়। শিশু জয়া আহসান দুঃখ করে জানায়, আগে দোলনা, চরকিতে খেলতাম। এখন কিছুই নেই। সেখানে যেতে আর ভালো লাগেনা।

কুমারখালী পৌরসভা থেকে পার্কের ব্যাপারে আয়-ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পৌর হিসাবরক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, পার্কটি লিজ দেয়া হয়েছে এবং লিজ গ্রহণকারীরাই এখান থেকে আয় করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুমারখালী পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, পরবর্তী অর্থবছরে পার্ক সংস্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।