বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইলের পশ্চিম তাবালেরচর এলাকার ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি, বসতঘর ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
গতকাল রোববার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে তিনি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, কুতুবদিয়ার মানুষ বছরের পর বছর সাগরের ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ অনেক আগেই দূর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুতুবদিয়ার জন্য একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদন করানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করেছে। ফলে আজও কুতুবদিয়ার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার।
ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবে মেগা লুটপাটই হয়েছে। ফলে কুতুবদিয়ার স্বাভাবিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্বীপবাসী বারবার অবহেলার শিকার হয়েছে।
তিনি জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করে এবং লিখিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে বর্ষা মৌসুমের আগে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রভাব খাটিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিয়েছেন ।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, দলীয় পরিচয় যাই থাকুক, আমি আশা করি সংশ্লিষ্টরা কুতুবদিয়ার মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবেন এবং মানসম্মতভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করবেন।
তিনি বলেন, আমি অতীতেও কুতুবদিয়ার মাটি ও মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কুতুবদিয়াকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন, আলী আকবর ডেইল, ইউনিয়ন সভাপতি আবু সাদেক, ইউনিয়ন সেক্রেটারি রুস্তম হায়দারসহ উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।