অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম
“কোনো জাতির ভবিষ্যৎ যদি আলোতে নিয়ে যেতে হয়, তবে তার একমাত্র সোপান হলো শিক্ষা। আর সেই সোপানের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ হয় রাষ্ট্রের বাজেট বরাদ্দের মধ্য দিয়ে। তাই শিক্ষাকে গুরুত্ব দিলেই জাতীয় সফলতা অর্জিত হতে পারে।”
উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শিক্ষা : একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে জ্ঞান এবং প্রযুক্তিনির্ভর। যে জাতি যত বেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান ততটাই সুদৃঢ়। বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) কাতার থেকে উত্তরণ, অন্যদিকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার রূপকল্প। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের মানবসম্পদ। আর মানবসম্পদকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার একমাত্র হাতিয়ার হলো শিক্ষা।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বাজেট কাঠামো, বরাদ্দের হার এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ১১/০৬/২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হয়। এই বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এই বাজেটের আলোকে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক চিত্র, মানুষের প্রত্যাশা এবং জাতীয় উন্নয়নের সমীকরণটি নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
শিক্ষা খাতের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড : একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী, তা পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো সেই দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ((GDP) কত শতাংশ শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে।
ইউনেস্কোর মানদণ্ড : আন্তর্জাতিক শিক্ষা মানদণ্ড এবং ইউনেস্কোর (UNESCO) ঘোষণা অনুযায়ী, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ অথবা মোট জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকা আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট : দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে তারা বরাদ্দের হার ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। অথচ বাংলাদেশে এই চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও), রোবোটিক্স, বিগ ডাটা এবং তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ধারার সাথে পরিচিত হতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের তরুণরা পিছিয়ে পড়বে এবং দেশ দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স সংকটে ভুগবে। শিক্ষায় বিনিয়োগ কেবল একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ।
পূর্বের বাজেট বরাদ্দ : সংখ্যার শুভঙ্করের ফাঁকি : বাংলাদেশের বিগত কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে একটি হতাশাজনক চিত্র ফুটে ওঠে। টাকার অঙ্কে প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়লেও জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়েছে।
বিগত অর্থবছরগুলোতে দেখা গেছে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৭৬ শতাংশ কিংবা ১.৭ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খেয়েছে। এ বছর শিক্ষা খাতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা মোট জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করা হলেও, তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের (৬ শতাংশ) তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটেও সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও তা পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়।
বিগত দশকগুলোতে সরকার শিক্ষা খাতের গুরুত্বের কথা মুখে বললেও বাস্তবে বরাদ্দের ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেছে । জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় ২ শতাংশ বা তারও নিচে অবস্থান করছে । যা সংখ্যার শুভঙ্করের ফাঁকি স্পষ্ট করে দেয় যে, আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ভাবনায় শিক্ষা এখনো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পায়নি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: আশার আলো বনাম হতাশার ছায়া : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা প্রশংসার দাবিদার। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে বিশ্লেষণ করলে এতে আশার আলোর পাশাপাশি গভীর হতাশার ছায়াও আমরা দেখতে পাই।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও ইতিবাচক দিক : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও তা প্রত্যাশার তুলনায় অতি সামান্য। তবুও পূর্বে চেয়ে বেড়েছে এটি একটি ইতিবাচক দিক।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ: ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে যা ছিলো ৫৪ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। যা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ছিলো ছিল ৪৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ: ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। পূর্বে ছিলো ১৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা। এখানে বাজেট কিছুটা কমানো হয়েছে।
নেতিবাচক ও উদ্বেগজনক দিক : টাকার অঙ্কে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হারের তুলনায় তা অপ্রতুল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি অর্থবছরে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে, যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় বরাদ্দ কমে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানুষের প্রত্যাশা : গুণগত মান, গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষা : শিক্ষা বাজেট নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হলেও প্রাপ্তির খাতা অনেকটাই শূন্য। মানুষের মূল প্রত্যাশাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো :
ক) গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ : শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুপারিশ হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ। শুধু সুন্দর ভৌত অবকাঠামো বা দালানকোঠা নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না, যদি না সেখানে মানসম্মত শিক্ষাদানের পরিবেশ না থাকে।
খ) উচ্চ শিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবন : বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ গবেষণার অভাব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাগারের অভাব প্রকট। বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, কৃষি এবং শিল্প খাতে নতুন উদ্ভাবন ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব। মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এবারের বাজেটে উচ্চ শিক্ষায় গবেষণার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে।
গ) কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) : শুধু বিএ বা এমএ পাস বেকার তৈরি না করে কর্মসংস্থানমুখী ও কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া সময়ের দাবি। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন খাতে বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা থাকলেও এবারের বাজেটেও এই খাতে দৃশ্যমান বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান : শুভঙ্করের ফাঁকি ও চক্রান্ত : বাংলাদেশে শিক্ষাদানের প্রধান উপকরণ হলেন শিক্ষক। সর্বাগ্রে শিক্ষককে অর্থনৈতিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষকদের মান মর্যাদা ও উন্নত জীবন হলে শিক্ষায়ও গুণগত মান বাড়বে নতুবা নয়।
একটি সামাজিক বৈপরীত্যের চিত্র : আমাদের দেশের মসজিদগুলোর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন চোখ জুড়ানোর মতো। অথচ ধর্মীয় শিক্ষার কাজে যারা অক্লান্ত শ্রম দিচ্ছেন, সেই ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিন, ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন অতি নগণ্য। একইভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। যা জাতীয় জীবনে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ ও বাস্তবায়নের নিম্ন হার : বাংলাদেশে শিক্ষা খাতের মূল সংকট শুধু বরাদ্দের অভাব নয়, বরং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতার অভাব । প্রতি বছরই দেখা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ব্যয় করতে পারে না । আর যেটুকুও ব্যয় হয় তার শতভাগ অর্থ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় হয় না ।
বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রধান কারণসমূহ :
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা : যেকোনো প্রকল্প পাস এবং অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি আনে এবং বাজেটের একটি অংশ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনেই ব্যয় করতে হয় ।
পরিকল্পনাহীন ভৌত অবকাঠামো : বাজেটের সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের মতো ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে । কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ বা শিক্ষক প্রশিক্ষণে সেই অর্থ খুব বেশি ব্যয় হয় না । এজন্য পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যয় করার এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে।
দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব : শিক্ষা খাতের কেনাকাটা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে। ফলে বরাদ্দের একটি বড় অংশ অপচয় ও দুর্নীতির আবর্তে হারিয়ে যায় । যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে ।
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি : সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় অনেক সময় সময়মতো শিক্ষা খাতে অর্থ ছাড় করতে পারে না ।
শিক্ষকদের সরকারি বকেয়া বেতনে বাজেট বরাদ্ধ রাখা : ১) স্বৈরাচারী সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত যে সকল শিক্ষক রাজনৈতিক কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করতে পারে নাই বা অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্থ বা বরখাস্ত হওয়ার কারণে সরকারি বেতন থেকে বঞ্চিত হয়ছে, প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের অন্যায় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে; সে সকল শিক্ষক অনেকেই ৫ই আগস্টের পর প্রায় দুই বছর পার হলেও বকেয়া বেতন প্রতিষ্ঠান বা সরকারের নিকট থেকে পাননি । তাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্ধ রাখা একান্ত প্রয়োজন । বিগত ২০০৯ সন থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারী যাঁদেরকে দীর্ঘদিন যাবৎ অন্যায় ও অবৈধভাবে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত/ সাময়িক বরখাস্ত/ বরখাস্ত করা হয়েছিল তাঁদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
টেকসই ভবিষ্যতের রূপরেখা : আমাদের প্রত্যাশা হলো এমন একটি শিক্ষা বাজেট, যা শুধু বরাদ্দের পরিমাণের দিক থেকে বিশাল হবে না, বরং দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষা খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারকে শিক্ষার বাজেট আরও বৃদ্ধি করে একে একক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
ইউনেস্কো ঘোষিত মানদণ্ড অনুযায়ী বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জন, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের সম্মানজনক জীবনমান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি দক্ষ, সমৃদ্ধ ও টেকসই জাতি গঠন সম্ভব। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট যেন কিছু সংখ্যার খতিয়ান না হয়ে, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল পৃথিবী গড়ে তোলার কার্যকর হাতিয়ার হয়-এটাই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।
লেখক : জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন। সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।