ষষ্ঠ কিস্তি
গত কিস্তিতে একাত্তরের এপ্রিলের প্রথমাংশে নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্যোগে শান্তি কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেছিলাম। তুলনাগত বিশ্লেষণে না গিয়ে একথা স্বাচ্ছন্দ্যে বলা যায় যে, পাাকিস্তানের রাজনীতিতে নেজামে ইসলাম পার্টি তখনকার দিনে একটি উল্লেখযোগ্য শক্তি ছিল। এ দলের প্রধান চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন (আগস্ট ১১, ১৯৫৫ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬) যেমন ছিলেন আওয়ামী লগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ১৯৫৭ পর্যন্ত)। জামায়াতে ইসলামীর নেটওয়ার্ক তখন দেশব্যাপী বিস্তৃত ছিল না। এপ্রিলের দ্বিতীয়াংশে তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানের সব জেলায় শান্তি কমিটির শাখা গঠিত হয় এবং গোলযোগপূর্ণ এলাকাসমূহে পুলিশ ও শান্তি কমিটির যৌথ মহড়া (Joint Patrolling) জোরদার করা হয়। এই সময়ে এছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিডিপি সভাপতি জানাব নূরুল আমীনের ২০নং নিউইস্কাটনস্থ বাসভবনে ও পরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয়মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিনের এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় শান্তি কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাহী পরিষদের সভায় অধ্যাপক গোলাম আযম উপস্থিত ছিলেন। উভয় সভাতেই সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ পর্যায়ে একটা কথা বলে রাখি। কয়েকদিন আগে সংসদে এক বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তাদের একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা ও দুঃখপ্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মির্জা ফখরুলের মরহুম পিতা মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা শান্তি কমিটির সভাপতি হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে পিতার ভূমিকার জন্য পুত্রের ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানিয়েছেন। উভয় দাবিকেই আমি নিন্দাযোগ্য বলে মনে করি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ি আমার বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়। তার পিতা জনাব মোশাররফ হোসেন কোম্পানিগঞ্জের বসুরহাট হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং নানা জনাব আমিনুল্লাহ ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। উভয়েই মুসলিম লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কাদেরের চাচারাও মুসলিম লীগ করতেন এবং এক চাচাকে ওবায়দুল কাদের নিজে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ১৯০ বছরের বৃটিশবিরোধী মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমির আন্দোলন সংগ্রামের ফসল ছিল। যারা এবং যাদের পূর্ব পুরুষরা মুসলমানদের দুশমন ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় একমত হতে পারেননি এবং ভারতও যাদের অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করেছে তারা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য নিন্দিত হতে পারেন না। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের নেতাকর্মীরা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত তাদের এই মাতৃভূমির প্রতি লিখিত আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এখানে কারুর পক্ষ থেকেই আপত্তিকর কথাবার্তা বলা উচিত নয়। আপনি আপনার পিতৃপুরুষকে প্রশ্নবিদ্ধ করা দায়িত্বশীল পদের দায়িত্বহীন অপব্যবহারেরই নামান্তর। পূর্ব পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের পাক্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আওয়ামী লীগের ৭৫ জন নির্বাচিত এমএলএ পিডিপি প্রাধান জনাব নূরুল আমিনের সাথে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সরকারি দলের নেতা হিসেবে তাকে মেনেনেয়ার ব্যাপারে তাদের সক্রিয় সমর্থনের কথা জানান।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী জনাব নূরুল আমিন অভিযোগ করেছেন যে, সারা প্রদেশে মুসলিম লীগ, জামায়াত ও নিজামে ইসলামের প্রায় ৪০০০ কর্মী সমর্থককে আওয়ামী লীগের লোকেরা হত্যা করেছে। জনাব নূরুল আমিন পিডিপির সাথে আওয়ামী লীগের সমঝোতা প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান এবং শান্তি কমিটিকে গ্রামাঞ্চলে গেরিলা স্কোয়াড বিরোধী প্লাটফরমে রূপান্তরের আহ্বান জানান। এই সময়ে খুলনার সাতক্ষীরার তালা থানায় টহলরত শান্তি কমিটি সদস্যরা ৪ ব্যক্তিকে একটি রিভলবার ও ১৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা রিপোর্টে জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ওমরাও খান কর্তৃক জামায়াতের এক কর্মিসভায় শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি রক্ষার লক্ষ্যে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে পাদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াতের পক্ষ থেকে ২৮-৬-১০৭১ তারিখে প্রদত্ত প্রেসিডেন্টের ভাষণের প্রশংসা করা হয় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্দেশ্যে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের যেসব সদস্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয় তাদের সদস্যপদ বহাল রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করা হয়। এই সময় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মিয়া তোফায়েল মোহাম্মদ পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন। তিনি বেআইনি ঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমএনএদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং উপনির্বাচনের জন্য চিহ্নিত এলাকাসমূহের জামায়াতের তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
মে মাসের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্স (EPCAF)-এর অংশ হিসেবে একটি বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে গৃহীত এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা মহকুমার সাব মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটার লে. কর্নেল গোলাম সারওয়ারই রাজাকার বাহিনী গঠনের প্রবক্তা ছিলেন। মে মাসের ২৫ তারিখে তার দফতরে আহূত আইনশৃঙ্খলা পারিস্থিতি পর্যালোচনা কমিটির এক সভায় তিনিই সর্বপ্রথম ১৯৪৮ সালে গঠিত আনসার বাহিনী ভেঙে দিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন যে, আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় চরদের মোকাবেলা করা এবং সরকারি সম্পত্তি পাহারা দেয়ার জন্য লাঠিধারী আনসার কার্যকর নয়। তাদের স্থলে সশস্ত্র রাজাকার দরকার। তার প্রস্তাবটি বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা ও বিশ্লেষণের পর গৃহীত হয় এবং প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ মহকুমার ১০টি ইউনিয়নে (৫+৫) সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন)-এর মাধ্যমে ৯৩.০০ টাকা বেতনে রাজাকার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।
নেত্রকোনার সামরিক প্রশাসক এ সিদ্ধান্তের আলোকে প্রাদেশিক সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান সামরিক প্রশাসকের নিকট পত্র পাঠান। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব মহিউদ্দীন আলমগীর বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বলাবাহুল্য, পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ এই ব্যক্তিকেই মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে রাজাকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে আগস্ট মাসের ২ তারিখে (১৯৭১) তা জারি করেন। তৎকাীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লে. জে. টিক্কা খানের স্বাক্ষরে তা জারি হয়। সাথে সাথে ১৯৪৮ সালের আনসার অধ্যাদেশও রহিত হয়। অর্ডিন্যান্সের শর্তানুযায়ী আনসার বাহিনীতে কর্মরত প্রায় ২০,০০০ আনসার সদস্যকে রাজাকার বাহিনীতে আত্মীকরণ করা হয়। অধ্যাদেশ জারির সময় প্রদেশের বিভিন্ন মহকুমায় যে সমস্ত আনসার কমান্ডার/এডজুটেন্ট কর্মরত ছিলেন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজাকার কমান্ডার/এডজুটেন্টের পদে আসীন হন। মৃত ও হতাহতদের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য শেখ মুজিব গঠিত কমিটির প্রধান এআইজি আবদুর রহিমও একজন রাজাকার কমান্ডার ছিলেন।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ও তাদের স্নেহধন্য সাংবাদিকরা এই জাতিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের শিকার বানিয়েছে। পাঠকরা নিশ্চয়ই জানেন যে, ড. পল জোশেপ গোয়েবলস ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত নাজি জার্মানির Reich Minister of Public Enlightenment and propaganda-- ছিলেন। তিনি বলতেন একটি মিথ্যাকেও যদি মানুষ বার বার উচ্চারণ করে (দীর্ঘকাল ধরে) তাহলে মানুষ সত্যানুসন্ধান ছেড়ে মিথ্যাকে সত্য বলে গ্রহণ করে নেয়। আমাদের দেশে গোয়েবলসের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, ভারতীয় এজেন্ট ও ইসলামবিদ্বেষী মহল গোয়েবলসীয় কায়দায় দীর্ঘকাল ধরে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য বলে প্রচার করে এসেছে। তাদের অনেকেই জানেন না যে, তাদের গুরু গোয়েবলস এ কাজে সফল হননি, জার্মানিকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। পরাজয় যখন ঘনিয়ে এলো গোয়েবলস তার স্ত্রী ম্যাগদা ও সন্তানদের নিয়ে বার্লিনের একটি বাংকারে হিটলারের সাথে দেখা করতে যান। ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলার আত্মহত্যা করেন। তার আগে গোয়েবলসের প্রতি ভালবাসার চিহ্ন হিসেবে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলারের পদটি তার নামে উইল করে যান। গোয়েবলস এই পদে মাত্র একদিন ছিলেন। তার পরদিন তার ছয় ছেলেমেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে নিজেই সস্ত্রিক আত্মহত্যা করেছিলেন।
জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ধরন প্রকৃতিও অনেকটা গোয়েবলসীয়। বাজারে অন্যান্য অপবাদের সাথে রাজাকার বাহিনী গঠন নিয়ে একটি মিথ্যা তথ্য চালু আছে। বলা হয় যে, ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে খুলনা জেলায় জামায়াত নেতা মাওলানা একেএম ইউসুফ রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। সংবাদ সূত্র হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের গবেষণাকর্মের রেফারেন্স দেয়া হয়। এর একটা কাহিনী আছে। আশির দশকের শেষের দিকে এ শিক্ষক মুক্তিযুদ্ধে আলেম-ওলামা ও ইসলামী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা প্রস্তাব নিয়ে জামায়াতের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সুবিধা চেয়েছিলেন এবং ৫০০০ কপির অগ্রিম মূল্য বাবদ ৫ কোটি টাকার একটি তহবিল প্রদানের অনুরোধ করেছিলেন। তার এ প্রস্তাবটি জামায়াত নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেননি বলে আমি জানি। ভদ্রলোক তার গবেষণা কর্মের নামে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধে আলেম-ওলেমাদের ভূমিকা শীর্ষক এ বইতে জামায়াত নেতা মাওলানা একেএম ইউসুফকে রাজাকার বাহিনী গঠনের মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃহত্তর খুলনা মাওলানা ইউসুফের নিজস্ব এলাকা। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখে তিনি ড. এএম মালেকের মন্ত্রিসভার রাজস্ব মন্ত্রী হিসেবে খুলনায় অনুষ্ঠিত রাজাকার বাহিনীর জন্য আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের তিনি উদ্বোধন করেছিলেন।
জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে তৎকারীন সরকার পুলিশ কনস্টেবল, মুজাহিদ ও রাজাকার নিয়োগের ব্যাপারে জামায়াতের সহযোগিদতা চান। ঢাকা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম সারওয়ারকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অনুরোধ করে এ নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্য ও মাদরাসা ছাত্রদের প্রাধান্য দেয়ার অনুরোধ করেন। অধ্যাপক সারওয়ার সিভিল আর্মড ফোর্সে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বা মাদরাসা ছাত্রদের নিয়োগের ব্যাপারে নিরুৎসাহ প্রদর্শন করেন এবং বলেন যে, এর ফলে তাদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হবে, বরং পাকিস্তানের সংহতিতে বিশ্বাসী বাহিনীগুলোর জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার আলোকে বেকার যুবকদের প্রাধান্য দেয়া উচিত। তখন ঢাকার জেলা প্রশাসক ছিলেন জনাব এমকে আনোয়ার সিএসপি, এই এমকে আনোয়ার পরবর্তীকালে বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয়মন্ত্রী ও নেতায় পরিগণিত হন। তিনি কুমিল্লার হোমনা-দাউদকান্দি আসনে একাধিকবার বিএনপির এমপি ছিলেন। একই সময়ে বাকেরগঞ্জে জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির এক সভায় পুলিশ, রাজাকার ও মুজাজিদ বাহিনীর নিয়োগের বেলায় ইসলাম ও পাকিস্তানের ঐক্যে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আগস্ট মাসের ৫ তারিখ (১৯৭১) পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতির উপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন (White Paper on the Crisis of East Pakistan) এবং এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সচিব জেনারেল রোয়েদাদ খান রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। এই সম্মেলনে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, মর্নিং নিউজ থেকে জনাব বদরুদ্দীন, দৈনিক আজাদ থেকে জনাব মুজিবুর রহমান, দৈনিক পাকিস্তান থেকে জনাব শাহদাৎ হোসেন, পাকিস্তান অবজার্ভার থেকে জনাব নজরুল ইসলাম, দৈনিক পূর্বদেশ থেকে আমি মো. নূরুল আমিন এবং চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী থেকে জনাব মোহাম্মদ খালেদ ও আবদুল মালেক অংশগ্রহণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে পূর্বপাকিস্তানী সাংবাদিকদের তরফ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে বলা হয় যে, আমরা পূর্ব পাকিস্তান সংকটের একটি রাজনৈতিক মীমাংসা চাই এবং সে মীমাংসা হতে হবে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের কাঠামোর ভিত্তিতে (We want a political solution to the problems of East Pakistan, and that solution must be within the framework of united Pakistan) সেপ্টেম্বর মাসে অধ্যাপক গোলাম আযমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জামায়াতের এক সভায় প্রদেশব্যাপী আওয়ামী লীগ কর্তৃক জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক হত্যা-নির্যাতন চালানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সভায় জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয় এবং ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মুত্তাওিকের সংখ্যা ১,৩৪,৩০৮ থেকে ২,০০,০০০ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৩/১০/৭১ তারিখে নাখালপাড়ায় দলের প্রাদেশিক অফিসে দলের ৩ দিনব্যাপী শূরা বৈঠক শুরু হয়। (চলবে)