যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে পুরোনো নামফলক সরিয়ে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। পুরনো নাম ও কোড (PBI) পরিবর্তন করে নতুন ব্র্যান্ডিং ও কোড (DJT) যুক্ত করা হচ্ছে। পুরো টার্মিনালে নতুন সাইন বসানোর কাজ চলছে। একই দিন ভোরে নতুন নামধারী বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মালিকানাধীন বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজ ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের সই করা একটি বিশেষ আইনের মাধ্যমে এই নাম পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নামফলক স্থাপন, ব্র্যান্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত পরিবর্তনে প্রায় ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হবে।
উদ্বোধনের দিন ট্রাম্প ফোর্স ওয়ানে করে বিমানবন্দরে পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প। ট্রাম্প পরিবার পাম বিচের মার এ লাগো বাসভবনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিয়মিত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এরিক ট্রাম্প লিখেছেন, দেশের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অবদান আর কেউ রাখেনি। একজন ছেলে এবং এই বিমানবন্দরের নিয়মিত ব্যবহারকারী হিসেবে নিজের বোর্ডিং পাসে ডিজেটি আদ্যক্ষর দেখতে তিনি গর্ববোধ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিমানবন্দর থেকে মার এ লাগো পর্যন্ত সড়কের একটি অংশের নাম পরিবর্তন করে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বুলেভার্ড রাখা হয়েছিল।
নিজের নামে বিমানবন্দরের নামকরণকে বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যালে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমানবন্দর আখ্যা দিয়ে পাম বিচের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে সাধারণ যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। সিনসিনাটিগামী যাত্রী কিগান কলেট বলেন, শেষ পর্যন্ত এটি একটি বিমানবন্দরের নাম মাত্র। তাঁর মতে, এটি মূল সমস্যা থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ।
একই দিনে টেনেসির ড্যান্ড্রিজ শহরে আই ৪০ সেতুর নামও পরিবর্তন করে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প সেতু রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ইউএস সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্নসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই এলাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
সূত্র: ফক্স নিউজ