ইরানে মার্কিন বাহিনীর নতুন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। 'অননুমোদিত রুটে' চলা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে থামানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পথ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রোববার ভোরে তারা ইরানে হামলা চালায়। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, সাইপ্রাসে নিবন্ধিত একটি কনটেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে ‘অননুমোদিত রুটে’ চলাচল করছিল এবং সে কারণেই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পরে আইআরজিসি আরও একটি জাহাজে হামলার কথা জানিয়ে অভিযোগ করে, সেটি ‘নিয়ম লঙ্ঘন’ করেছিল।

আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘সিস্টেম বন্ধ রেখে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপন্ন করা একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও নতুন করে এই সংঘাত শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তাদের বাহিনী ইরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করে ইরানকে এর মূল্য চোকাতে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ-সামরিক সক্ষমতা, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং নজরদারি কেন্দ্র।

এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

এই হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান পথ। পথটি বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও, তীব্র উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।