মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলার হুমকির জেরে সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। ২০২৬ সালের ২৩ জুন (মঙ্গলবার) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ওয়াকআউটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচনা চলাকালীন সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল' এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান ও লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর (হিজবুল্লাহ) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে শক্তিশালী সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দেন।ইরানের অবস্থান: এই হুমকির বার্তা পাওয়ার পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠক বর্জন করে। ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরান কখনোই কোনো হুমকি বা ভীতিপ্রদর্শনের মুখে বসে আলোচনা পরিচালনা করে না। তারা এই হুমকিকে পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্তের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।শান্তি সমঝোতার পটভূমি১৪ দফার চুক্তি: দীর্ঘদিন চরম উত্তেজনার পর কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা শান্তি সমঝোতায় পৌঁছায়।চুক্তি কার্যকর: গত ১৮ জুন উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই চুক্তিটি কার্যকর করা হয়েছিল।সম্পদ অবমুক্তি: এই চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের রাষ্ট্রীয় আর্থিক সম্পদ ছেড়ে দিতে চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।বর্তমান পরিস্থিতিআলোচনায় ফেরার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: বৈঠক ছেড়ে আসার পর মার্কিন পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।পৃথক বৈঠক: বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক এই মন্তব্যের কারণে সদ্য স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই মার্কিন-ইরান শান্তি সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।