২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। মাছ, গোশত, ডিম ও অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের স্বস্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে সবজির বাজারে হাসি ফিরলেও চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের লেবুর হালি ২০ টাকা, ছোট লেবু ১০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমি উৎপাদন বাড়ায় পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লতি ও ধুন্দুলের মতো সবজির পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। ফলে দামও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি বজায় রয়েছে। বাসাবো কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের বাজারেও বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন নেই। পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে চালের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বোরো মৌসুমের নতুন ধান বাজারে আসার পর কিছুদিন চালের দাম কমলেও সেই স্বস্তি টেকেনি। গত এক মাসে চিকন, মাঝারি ও মোটাÑ সব ধরনের চালের দামই বেড়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। আগে ৭০ টাকায় নেমে আসা চিকন চাল বর্তমানে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের চিকন চালের দাম ৮০-৮২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে মাঝারি চালের দাম ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা এবং মোটা চালের দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ টাকায় উঠেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আরও বেড়েছে।

মালিবাগ কাঁচা বাজারের মুদি দোকানি হোসেন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুদিন ধরেই বাড়তি। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

ব্যবসায়ীদের মতে, কুরবানির ঈদের সময় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি চালের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ফলে সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও চালের দামে নিরাশা কাটছে না সাধারণ ক্রেতাদের।