বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্ব থেকে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি ‘প্রকৃত অংশীদারিত্বে’ রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিমিয় করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মো. ওসমান ফারুক, এমপি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ককাস অব আমেরিকা’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), এমপি এবং মিস. মারদিয়া মমতাজ, এমপি।

তিনি উল্লেখ করেন: "এই ককাসে তাঁদের উপস্থিতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে মিলেমিশে গঠনমূলক সংসদীয় কূটনীতি পরিচালনা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি জামায়াতে ইসলামীর ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।"

বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে তিনি দেশের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে 'জুলাই জাতীয় সনদের' প্রতি জামায়াতের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য মার্কিন সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ডা. শফিকুর রহমান।

পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, যার মধ্যে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত, তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বাগত জানায়। সেখানে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

ককাস অব আমেরিকাকে তাদের চমৎকার কাজের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আমীরে জামায়াত স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদীয় কূটনীতির মূল দায়িত্ব কেবল উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং শরণার্থী পরিবার, বন্যাদুর্গত এলাকা এবং কণ্ঠহীন মেহনতি মানুষের মতো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করাই এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে তাদের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।