মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রসুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে মোতার জাহানের বাড়ির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না করেই পুরো টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে নথিপত্রে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে খাল খনন করা হয়েছে।
প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ছিল ১ দশমিক ২ কিলোমিটার (১,২০০ মিটার)। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ১.২ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র প্রায় ৬০০ মিটার খনন করেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী বিল উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে গত ৩০ এপ্রিল (২০২৬) ৩৬৩১১০৭ ক্রমিক নম্বর ও ০০০২৩৭৯৭ নম্বর টোকেনের মাধ্যমে প্রকল্পের পুরো ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ও রসুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল দিদার নিজের ভেকু দিয়ে কাজ করিয়েছেন। প্রায় ৬০০ মিটার খাল খননে ভেকু ভাড়া বাবদ তিনি প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া খননকৃত মাটি খালের দুই পাড়ে ফেলে রাখায় বর্ষা শেষে ওই মাটি আবার খালে পড়ে পুনরায় ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও উদ্বৃত্ত প্রায় ২৯ লাখের বেশি টাকা দীর্ঘদিন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১.২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য মোট ৪ লাখ ২১ হাজার ৭২১ ঘনফুট মাটি কাটার প্রাক্কলন করা হয়। এতে উপকারভোগী শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, নন-ওয়েজ খাতে ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং সর্দার ভাতা ৪ হাজার ২৮০ টাকা বরাদ্দ ছিল। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে ১০৭ জন শ্রমিকের ৪০ কর্মদিবসে কাজ করার কথা ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা ছিল ২৫ এপ্রিল থেকে ১৩ জুন (২০২৬) পর্যন্ত।
এ বিষয়ে প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল দিদার বলেন, “আমরা ৬০০ মিটার কাজ করতে পেরেছি, পুরো কাজ শেষ করতে পারিনি। এতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অতিরিক্ত পানি সেচ দিতে হয়েছে, ব্যাটারি চুরি হয়েছে এবং তেলের দামও বেশি ছিল। ভেকু দিয়ে কাজ করেছি, কাজ করে কোনো লাভ হয়নি।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. সাজেদা সরকার বলেন, “এ প্রকল্পে আমাদের ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে। অনলাইনে চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হয়। অনলাইন জটিলতার কারণে এখনো টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ বা আগামীকালের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকল্পের কাজ, অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।