মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মৃত আনজাত আলী মুন্সীর ছেলে হাতেম আলী (৮০) ও তার ছেলে শহিদ মিয়া (৩৪), মিরেরগাঁও গ্রামের মৃত তৈয়ব আলী প্রধানের ছেলে ইসহাক (৫০) এবং তার ছেলে তানভির (২২)।

আহতদের মধ্যে দুজনকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যারগাঁও গ্রামের হাতেম আলীর পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের মামুনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে শুক্রবার মাগরিবের নামাজ শেষে হাতেম আলী বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে শহিদ মিয়া, শ্বশুর ইসহাক ও শ্যালক তানভিরও মারধরের শিকার হন।

আহত শহিদ মিয়া বলেন, প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অভিযুক্তরা তাদের জমি ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা জমিতে যেতে পারছেন না। শুক্রবার নামাজ শেষে আমার বাবার ওপর হামলা করা হয়। তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে, আমার শ্বশুর ও শ্যালককেও মারধর করা হয়। দীর্ঘদিনের এ বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও বিচার চেয়েছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মামুন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধটি স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। শুক্রবার মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে হাতেম আলীর আত্মীয়রা তার কাছে এসে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গালাগালি করেন। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করেন।

গজারিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির হোসেন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।