গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল (মদ) ভেবে মিথানল পান করার ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জুনিয়ার বাজার এলাকার আব্দুল রেজাকের ছেলে সজিব (২২) এবং একই উপজেলার মোস্তফা ইসলামের ছেলে রনি মিয়া (২০)। তারা দুজনই গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সজিব কাঁচামালের ব্যবসা করতেন এবং রনি আশুলিয়া পলিটেকনিকে পড়াশোনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই রাতে বাইমাইল কাদের মার্কেট এলাকায় ভাড়াটিয়া রমজানের বিয়ের অনুষ্ঠানে তার বিয়াই সাগর অ্যালকোহল হিসেবে একটি তরল পানীয় পরিবেশন করেন। পরে সেটি পান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে তারা বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ সেবন করেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাদের কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর ৪টায় সজিব এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় রনি মিয়ার মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মিথানল (Methanol) বিষক্রিয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, মিথানল অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক, যা অ্যালকোহল হিসেবে পান করলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
নিহত রনি মিয়ার নানী রেজিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতি আমার কাছেই থেকে পড়াশোনা করত। আমি ভিক্ষা করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। সে ' ধরনের নেশা করত না। তাকে প্রতারণা করে বিষাক্ত মিথানল পান করানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজনের মৃত্যুর বিষয়ে বার্তা পাওয়া গেছে। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে আরও একজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাগর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যালকোহলের নামে কীভাবে মিথানল সরবরাহ করা হলো এবং এটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল-তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মিথানল অবৈধভাবে বাজারে আসার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সামাজিক আয়োজনে অজ্ঞাত উৎসের মদ বা রাসায়নিকজাতীয় পানীয় সেবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।