তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন এবং যারা বাইরে কথা বলেন তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না।
তিনি বলেন, আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি। আমাদের ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি বিরাট অর্জন। আর যদি ১৪০ কোটি ও ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান, তাহলে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা এটা চাইবেন না, আমরা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখব। আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক এবং আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ এভাবেই আমরা এগোতে চাই।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির মূল উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা রাশেদ খান ও মোমিনুল আমিন।
প্রধান আলোচক হিসেবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, যারা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, তারা কোন মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন, সেটা ভাবতে হবে। তবে জাতীয় ঐক্যই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য পরিহার করা উচিত। আমাদের মতো দেশের জন্য এ ধরনের বাজেট বড় নয়, তবে সামর্থ্যের ঘাটতি রয়েছে। আকাশ কিংবা পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকিয়ে বসে থাকলে চলবে না, সেখানে পৌঁছানোর কাজ করতে হবে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় সামাজিক চুক্তির মতো বিষয়ে কথা বলেছেন। জুলাই সনদেও তেমন চর্চা রয়েছে। জাতীয় সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পেছনে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তবে যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন যুক্তিযুক্ত নয়। বিএনপি সংস্কার বা জুলাইবিরোধী নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জুলাই সনদে গণভোটের বিষয়টি প্রথমে ছিল না, পরে নির্বাচন যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য একই দিনে গণভোট যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায় এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেয় বলে দাবি করা হয়। আজ সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা বেশি থাকায় তারা সংস্কার করতে পারে। অথচ অর্জন অন্যদের হাতে চলে গেছে। বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হওয়া দরকার।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি সংস্কারবিরোধী নয় এবং তারা জুলাই সনদের স্বাক্ষরিত অংশ বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন,আমরা একটি ঐতিহাসিক ভুল করেছি” এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।